সুন্দরবনের ক্ষতি নিরোপনে তদন্ত কমিটি, বাগেরহাটে ভেঁসে গেছে ৪ হাজার চিংড়িঘের

টাইগার নিউজ

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার
জলোচ্ছাসে বাগেরহাট জেলায় ৪ হাজার ৬৩৫ চিংড়ি খামারের মাছ ভেঁসে গেছে।
শরনখোলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/৩ পোল্ডারের ২শ মিটার
রিংবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ডুকে শরণখোলা গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার
পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পানি কিছুটা নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্থ
বাধ নির্মামে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্তওে
৯টি ফিশিং বোট ও মোংলার পশুর নদীতে একটি ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবে গেছে। এদিকে বুক
পেতে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তিব্রতা কমিয়ে দিয়ে লোকালয়ের মানুষদের এবারো
রক্ষা করা ওয়ার্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরনের পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে
কর্মকর্তাদের প্রধান করে ৭ সদস্যের আলাদা দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই
কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে
বলা হয়েছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে ৮টি বন
অফিসের টিনের চালা উড়ে গেছে ও সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেছে ৫টি জেটি। বনের
জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি। জেলায় কিছু কাচা ঘরবাড়ি ও
গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। সামান্য ক্ষতি হয়েছে আউস ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজির।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলার ১ হাজার ৩১টি আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা প্রায় ৪ রাখ মানুষ
তাদের নিজ-নিজ বাড়ীতে ফিরে গেছেন।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান, ঝড়ে জেলার ৪ হাজার ৬শত
৩৫টি মৎস্য ঘের ভেঁসে গেছে। সব থেকে বেশী ক্ষতি হয়েছে মোংলা, শরণখোলা,
মোরেলগঞ্জ ও রামপাল উপজেলায়। এতে জেলার কয়েক হাজার চিংড়ি চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ
হয়েছে। সরকারী ভাবে ক্ষতি ধরা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে বেসরকারী
হিসেবে এক্ষতির পরিমান আরোও বেশি বলে জানিয়েছেন চিংড়ি চাষীরা।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ উদ জামান জানান,
সুপার সাইক্লোন আম্ফানের স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার
জলোচ্ছাসে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/৩
পোল্ডারের ২শ মিটার রিংবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ডুকে পড়েছে। এতে শরণখোলার
গাবতলা, বগী, বকুলতলা, চালিতাবুনিয়া এবং উত্তর-সাউথখালী গ্রামের প্রায় দেড়
শতাধিক পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে পানি কিছুটা নেমে যাওয়ার
পর ক্ষতিগ্রস্থ বাধ নির্মামে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ
বেলায়েত হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বন তলিয়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের কটকা,
দুবলা, চরাপুটিয়া ও কোকিলমুনি বন অফিসের কম্পাউন্ডে দল বেঁধে আশ্রয় নেয়া
কয়েক শত হরিণ সকালে বনে ফিরে গেছে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সুন্দরবনে প্রথমে
আঘাত সাইক্লোন আম্ফানের রাতভর চলে জড়ের তান্ডব। প্রাথমিক ভাবে ৮টি বন অফিসের
টিনের চালা উড়ে গেছে ও সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেছে ৫টি জেটি। কোন বন্য প্রানী মারা
যাবার খবর বা বনের গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি। বাগেরহাট পূর্ব
সুন্দরবন বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি নিরোপনে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা এসিএফ মো. জয়নুল
আবেদিন ও চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা এসিএফ এনামুল হককে প্রধান করে সাত সদস্যেও
আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের
মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রঘুনাথ করের সাথে কথা হলে
তিনি বলেন, ঘূর্নিঝড়ে আগেই জেলার বোরে ধান কৃষকেরা ঘরে তুলে ফেরতে সক্ষম
হয়েছিল। তবে ঝড়ে আউস ও গ্রীষ্মকালীন সবজির সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তা নিরুপনের
জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত



close