শীর্ষ সংবাদ :

আমার উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা চলছে : তালুকদার আব্দুল খালেক

টাইগার নিউজ

22437সামছজ্জামান শাহীন :: মেয়রের দায়িত্ব ছাড়ার সময় ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পাইপ লাইনে রেখে এসেছি। সেই প্রকল্পগুলোর কাজই এখন চলছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে খুলনা মহানগরীর চিত্র পাল্টে যাবে। কিন্তু উন্নয়ন কাজের গুণগত মান অতীতের মতো হচ্ছে না। খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়িতে টাইগার নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সাবেক মেয়র খালেক বলেন, পাঁচ বছর মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালে খুলনা সিটির উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এখন আর বর্ষা হলেই নগরী তলিয়ে যায় না। আর একটু পানি জমলেই সড়কগুলো খানাখন্দে ভরে যায় না। সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকিত শহর গড়তে ব্যাপক কাজ হয়েছে। শহীদ হাদিস পার্ক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রেখে এসেছি। এসব উন্নয়ন চোখে লাগার মতো। আমার সময়ে গ্রহণ করা প্রকল্পগুলোর কাজই এখন চলছে। কিন্তু কাজের গুণগত মান আমার সময়ের মতো হচ্ছে না। সড়কগুলোর উন্নয়ন কাজের প্রধান উপাদান ইট আগে কাজের সাইডেই ভেঙে খোয়া করা হতো। এখন ভাঙা খোয়া ট্রাকে করে কাজের সাইডে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, নগরীর ময়ূর নদীর খনন করে প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ছোট-বড় ৬৪টি সড়কের সংস্কার কাজ, নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে ২২টি প্রাকৃতিক খাল খননের মাধ্যমে প্রবাহমান করার অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম। তার অধিকাংশরই কাজ শুরু করে এসেছি। অর্থও বরাদ্দ করিয়েছি। এর মধ্যে বেশকয়টির কাজ শেষ পর্যায়ে রেখে এসেছি। তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, আমার সময়ে সিটি করপোরেশনে মাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। দায়দেনা শোধ করে দায়িত্ব ছেড়ে আসার সময় জেনারেল ফান্ডে ২৭ কোটি টাকা রাখা ছিল। করপোরেশনে দলীয় কোনো প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিইনি। এখন নাকি করপোরেশন দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলেছে। সাবেক মেয়র খালেক বর্তমান মেয়রকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, নগরীর পয়োনিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে যে কাজ চলছে তা সঠিক হচ্ছে কি-না তদারকি দরকার। বিশেষ করে ড্রেনগুলোর নদীমুখী ঢাল সঠিক হচ্ছে কি-না। যদি ঢাল ঠিকঠাক না হয় তাহলে জলাবদ্ধতা কমার জায়গা বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার প্রধান অন্তরায় নগরীর মধ্যে প্রাকৃতিক খালগুলো আটকে বা দখল করে স্থাপনা তৈরি। এ খালের জমি উদ্ধার করাসহ সড়কগুলো প্রশস্ত করা জরুরি। যা নগরবাসীর উপকারেই আসবে। তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মেয়র থাকাকালে অনেক দেনদরবার করে নগরবাসীর পানির সংকট দূর করতে খুলনা ওয়াসার মাধ্যমে ২৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বাগেরহাটের মধুমতি নদীর পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে খুলনা শহরে এনে শোধন করে নগরবাসীর ঘরে ঘরে পেঁৗছে দেওয়া হবে। কিন্তু এই প্রকল্পের বড় বাধা রিজার্ভার তৈরির প্রয়োজনীয় জমি কেউ দিতে চাইছে না। ফলে প্রকল্প কাজে ধীরগতি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তৈয়েবুর রহমানের সময় ফুলতলা থেকে পানি এনে নগরীতে সরবরাহের জন্য ৪০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু এনজিওর মামলার কারণে ওই ৪০ কোটি টাকাই জলে গেছে। কোনো কাজে আসেনি। একইভাবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সময়মতো খুলনায় পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যায়নি। এ জন্য নগরবাসীর স্বার্থে গ্রহণ করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। চলমান উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন আমার নির্বাচনী এলাকা রামপাল ও মংলা উপজেলায় দলীয় কর্মকাণ্ড তেমন একটা করে উঠতে পারিনি। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর নির্বাচনী এলাকায় দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করেছি। ফলে চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনে দুই উপজেলায় দলীয় সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নানা কারণে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগে দীর্ঘদিন কাউন্সিল হয় না। যে কারণে দলের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজও গতিহীন হয় এ কথা ঠিক। এ কারণে খুব শীঘ্রই কাউন্সিল করার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত



close